শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 দৈনিক বাংলাদেশ

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ


শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় চোর-ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে স্থানীয়রা

কক্সবাজার শহরের ৫নং ওয়ার্ড পশ্চিম চৌধুরীপাড়া, বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পশু হাসপাতালের পেছনের এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাত নামলেই চোর-ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য শুরু হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সাধারণ বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নির্বিঘ্ন রাত্রিযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে সংঘটিত হয় বড় ধরনের চুরির ঘটনা। চোরেরা ঘরের সামনের দরজার ফাঁক গলে ভেতরে প্রবেশ করে ঘর নির্মাণের জন্য আনা প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা মূল্যের রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য আবাসন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার একই এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কার্যকর কোনো প্রতিকার না হওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাতের বেলা বাড়ির ভেতরেও নিরাপত্তা নেই—এমন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তারেক মোহাম্মদ ইকবাল জানান, রাতে সামান্য শব্দ হলেই ঘুম ভেঙে যায়। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।এলাকার সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত টহল জোরদার, চোরচক্র সনাক্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা জানান, দিন দিন সন্ত্রাসী, চোর ও ছিনতাইকারীদের আবির্ভাব বেড়েই চলেছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ছমিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তবে এ পর্যন্ত উক্ত এলাকায় সংঘটিত চুরির ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।তিনি আরও বলেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তি, ঘটনা বা তৎপরতা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা থাকলে অপরাধ দমন করা আরও সহজ হবে।

শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় চোর-ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে স্থানীয়রা