শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 দৈনিক বাংলাদেশ

কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করলো হাইকোর্ট


আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ
প্রকাশ : ২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ |

কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করলো হাইকোর্ট
কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত
কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে মহামান্য হাইকোর্ট। একই বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরীর হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শহিদুল ইসলামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে গত ২৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের জাস্টিস সিকদার মাহমুদুর রাজি ও রাজি উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। একই সাথে শহিদুল ইসলামকে জেষ্ঠতা নির্ধারণ করে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে তা ৪ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশির) মাধ্যমিক কর্মকর্তা -২ জিএম মোস্তাফিজুর ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনারকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে রুলনিশি জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী জানান, কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমজান আলীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে  প্রধান শিক্ষক নিয়ে সমস্যা নিরসনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে বিধি বহির্ভূতভাবে ১নং সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারন করে চিঠি ইস্যু করেন। তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসারের সেই পত্র নিয়ে শহিদুল ইসলাম মাউশি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেন। গত ১৬ জুলাই তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার বরাবর মাউশি  চিঠি পাঠান শহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। সেদিন থেকেই শহিদুল ইসলাম কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।
সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী দাবি করেন- শহিদুল ইসলাম তথ্য গোপন করে অনেকটা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নিজেকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দাবি করে বিধি বহির্ভূতভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নীতিমালা অনুসরণ না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহিদুল ইসলামের এমপিওভুক্ত হন ২০০১ সালে। অথচ আবুল আজম চৌধুরী এমপিওভূক্ত হন ১৯৯৫ সালে। আবুল আজম চৌধুরী সিনিয়র শিক্ষক হয়েও শহিদুল ইসলাম ২০০১ সালে এমপিও ভুক্ত হলেও  তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়াটা বিধি মোতাবেক হয়নি বলে তিনি জানান।  প্রকৃতপক্ষে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আবুল আজম চৌধুরী হবেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ওই অনিয়মের বিরুদ্ধে আবুল আজম চৌধুরী গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত আমলে নিয়ে ৬ মাসের জন্য মাউশি কতৃক শহিদুল ইসলামকে দেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ স্থগিতের আদেশ দেন একই সাথে কিভাবে জেষ্ঠতা নির্ধারণ করা  হয়েছে তা ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে মাউশির মাধ্যমিক কর্মকর্তা -২ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখার সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করেন। ফলে ২৭ নভেম্বর থেকে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের কার্যক্রম বিধি বহির্ভূত হিসাবে গণ্য হবে। কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রশি টানাটানি চলে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করলো হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image
কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে মহামান্য হাইকোর্ট। একই বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরীর হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শহিদুল ইসলামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে গত ২৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের জাস্টিস সিকদার মাহমুদুর রাজি ও রাজি উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। একই সাথে শহিদুল ইসলামকে জেষ্ঠতা নির্ধারণ করে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে তা ৪ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশির) মাধ্যমিক কর্মকর্তা -২ জিএম মোস্তাফিজুর ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনারকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে রুলনিশি জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী জানান, কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমজান আলীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে  প্রধান শিক্ষক নিয়ে সমস্যা নিরসনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে বিধি বহির্ভূতভাবে ১নং সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারন করে চিঠি ইস্যু করেন। তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসারের সেই পত্র নিয়ে শহিদুল ইসলাম মাউশি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেন। গত ১৬ জুলাই তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার বরাবর মাউশি  চিঠি পাঠান শহিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে। সেদিন থেকেই শহিদুল ইসলাম কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।
সিনিয়র শিক্ষক আবুল আজম চৌধুরী দাবি করেন- শহিদুল ইসলাম তথ্য গোপন করে অনেকটা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নিজেকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দাবি করে বিধি বহির্ভূতভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নীতিমালা অনুসরণ না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহিদুল ইসলামের এমপিওভুক্ত হন ২০০১ সালে। অথচ আবুল আজম চৌধুরী এমপিওভূক্ত হন ১৯৯৫ সালে। আবুল আজম চৌধুরী সিনিয়র শিক্ষক হয়েও শহিদুল ইসলাম ২০০১ সালে এমপিও ভুক্ত হলেও  তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়াটা বিধি মোতাবেক হয়নি বলে তিনি জানান।  প্রকৃতপক্ষে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী আবুল আজম চৌধুরী হবেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ওই অনিয়মের বিরুদ্ধে আবুল আজম চৌধুরী গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত আমলে নিয়ে ৬ মাসের জন্য মাউশি কতৃক শহিদুল ইসলামকে দেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ স্থগিতের আদেশ দেন একই সাথে কিভাবে জেষ্ঠতা নির্ধারণ করা  হয়েছে তা ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে মাউশির মাধ্যমিক কর্মকর্তা -২ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখার সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করেন। ফলে ২৭ নভেম্বর থেকে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের কার্যক্রম বিধি বহির্ভূত হিসাবে গণ্য হবে। কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলে দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রশি টানাটানি চলে আসছে।

 দৈনিক বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ
নির্বাহী সম্পাদক: রকসী সিকদার
বার্তা সম্পাদক:
পরিচালনা সম্পাদক: ইকবাল চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক বাংলাদেশ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত