শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
 দৈনিক বাংলাদেশ

শাপলাপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২০ টমটম, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার


রোমানা আক্তার
রোমানা আক্তার
প্রকাশ : ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ |

শাপলাপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২০ টমটম, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২০ টমটম
গতকাল শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) গভীর রাত। চারপাশে নিস্তব্ধতা, মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ঘোনাপাড়ায় নেমে আসে এক বিভীষিকাময় অন্ধকার। হঠাৎ করে আগুনের লেলিহান শিখা প্যালেন চেয়ারম্যান ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম মেম্বারের টমটম গ্যারেজে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গ্রাস করে নেয় পুরো গ্যারেজ।

চোখের সামনে পুড়ে যেতে থাকে একের পর এক টমটম। কেউ চিৎকার করছে, কেউ পানি ছুটাচ্ছে, কেউ দাঁড়িয়ে শুধু তাকিয়ে দেখছে, কিন্তু কিছুই করার নেই। আগুনের তাপের কাছে যাওয়া অসম্ভব। মানুষের আর্তচিৎকারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল পোড়া লোহার গন্ধ আর পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের ধোঁয়া।

এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০টি টমটম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর কয়েকটি ছিল ফরিদুল আলম মেম্বারের, আর বাকিগুলো ছিল এলাকার গরিব, দিনমজুর টমটম চালকদের। যারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান, সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেন, এক রাতেই তাদের জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

চালকরা আগুনে পোড়া গ্যারেজের সামনে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ভাই, এই গাড়িটা ছাড়া আমার কিছুই নাই। ধার-কর্জ করে কিনছিলাম। আজ আগুনে সব শেষ।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হান্নান। তার দোকানটি আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, নগদ টাকা সবকিছুই ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখেছেন জীবনের সব সঞ্চয়।

ভোর হতেই ঘটনাস্থলে ভিড় করে মানুষ। কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ চোখ মুছছে, কেউ হতবাক হয়ে পোড়া গ্যারেজের দিকে তাকিয়ে আছে। আগুন নেভার পর পড়ে আছে শুধু ছাই আর পোড়া লোহার স্তূপ- আর তার মাঝেই চাপা পড়ে গেছে বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ।

ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং এই চরম দুর্দিনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না হলে এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হবে। কারণ টমটমগুলোই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।

আজ শাপলাপুরের ঘোনাপাড়ায় বাতাসে ভাসছে শুধু পোড়া গন্ধ নয়-ভাসছে অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস, বুকভাঙা কান্না আর একটাই প্রশ্ন “আগামীকাল আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?”

আপনার মতামত লিখুন

 দৈনিক বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


শাপলাপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২০ টমটম, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
গতকাল শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) গভীর রাত। চারপাশে নিস্তব্ধতা, মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ঘোনাপাড়ায় নেমে আসে এক বিভীষিকাময় অন্ধকার। হঠাৎ করে আগুনের লেলিহান শিখা প্যালেন চেয়ারম্যান ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম মেম্বারের টমটম গ্যারেজে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গ্রাস করে নেয় পুরো গ্যারেজ।

চোখের সামনে পুড়ে যেতে থাকে একের পর এক টমটম। কেউ চিৎকার করছে, কেউ পানি ছুটাচ্ছে, কেউ দাঁড়িয়ে শুধু তাকিয়ে দেখছে, কিন্তু কিছুই করার নেই। আগুনের তাপের কাছে যাওয়া অসম্ভব। মানুষের আর্তচিৎকারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল পোড়া লোহার গন্ধ আর পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের ধোঁয়া।

এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০টি টমটম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর কয়েকটি ছিল ফরিদুল আলম মেম্বারের, আর বাকিগুলো ছিল এলাকার গরিব, দিনমজুর টমটম চালকদের। যারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান, সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেন, এক রাতেই তাদের জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

চালকরা আগুনে পোড়া গ্যারেজের সামনে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ভাই, এই গাড়িটা ছাড়া আমার কিছুই নাই। ধার-কর্জ করে কিনছিলাম। আজ আগুনে সব শেষ।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হান্নান। তার দোকানটি আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, নগদ টাকা সবকিছুই ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখেছেন জীবনের সব সঞ্চয়।

ভোর হতেই ঘটনাস্থলে ভিড় করে মানুষ। কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ চোখ মুছছে, কেউ হতবাক হয়ে পোড়া গ্যারেজের দিকে তাকিয়ে আছে। আগুন নেভার পর পড়ে আছে শুধু ছাই আর পোড়া লোহার স্তূপ- আর তার মাঝেই চাপা পড়ে গেছে বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ।

ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং এই চরম দুর্দিনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না হলে এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হবে। কারণ টমটমগুলোই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।

আজ শাপলাপুরের ঘোনাপাড়ায় বাতাসে ভাসছে শুধু পোড়া গন্ধ নয়-ভাসছে অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস, বুকভাঙা কান্না আর একটাই প্রশ্ন “আগামীকাল আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?”

 দৈনিক বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ
নির্বাহী সম্পাদক: রকসী সিকদার
বার্তা সম্পাদক:
পরিচালনা সম্পাদক: ইকবাল চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক বাংলাদেশ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত