প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫
টেকনাফজুড়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সম্পাদক কামরুলের দাপট, স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ
আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগে টেকনাফে নানা বিতর্কের জন্ম দেওয়া বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের টেকনাফ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম।ছাত্র জনতার রক্তে রঞ্জিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও টেকনাফ উপজেলা জুড়ে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এই নেতা।টেকনাফ সহ দেশের আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাদের আমল নামার কারণে এলাকা ছাড়া, সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। আবার অনেকেই ধরা পড়ে এখন কারাগারে। কিন্তু এত অপরাধ করে একাধিক মামলার আসামি কামরুলের অবাধ চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবাসম্রাট খ্যাত সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ‘ডান হাত’ ছিলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলাম এবং তার সব অপকর্মের সঙ্গী ছিলেন। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ, হোয়াইক্যং কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে যে হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছিল তা যেকোনো সময়ের বর্বরতাকেও হার মানায়। ঐদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে তার ক্যাডার বাহিনীর হামলায় আহত হয় অর্ধশত শিক্ষার্থী। এসব হামলা ও নির্যাতন প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনো ভুলতে পারেনি।সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তার কর্মী বাহিনী নিয়ে আন্দোলন ঠেকাতে মাঠেই ছিলেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের এই নেতা। দুপুরের পর হাসিনা পালানোর খবরের পর তারা মাঠ ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় রয়েছে ইয়াবা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলা। এরমধ্যে কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে বলেও জানা যায়।অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের সাথে মিলে কামরুল অন্তর্বর্তী সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন ও টেকনাফে অস্থিতিশীল পরিতিস্থি’ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বদির সাথে মিলেমিশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও ভোট ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করতেন তিনি। টেকনাফে জামায়াত ও বিএনপির অসংখ্য কর্মীকে পুলিশী হয়রানির মাধ্যমে এবং জলদস্যুতা, মাদক কারবার ও চাঁদা আদায় করে রাতারাতি কোটিপতিও বনে যান তিনি।গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনে আহত এক শিক্ষার্থী বলেন, মিছিল চলছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। হঠাৎ লাঠি, দা, রড নিয়ে তাদের ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলে পড়ে। তার বাহিনীর হামলায় সেদিন অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।টেকনাফে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আব্দুর রহমানসহ একাধিক ছাত্রনেতা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন সভায় জোরালোভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।টেকনাফের বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে ছাত্রদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার ভোট ডাকাতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন এবং অর্থ যোগানের অভিযোগ রয়েছে কামরুলের বিরুদ্ধে।এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সম্পাদক কামরুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। বর্তমানে পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছি।এবিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন শাহীন জানান, বর্তমান সময়ে টেকনাফসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনা সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অবস্থানে পুলিশ। সুতরাং এধরনের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক বাংলাদেশ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত